মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে আইন লঙ্ঘনে ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ। উপজেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর অনুমোদন ছাড়াই ঋণ বিতরণ, সুদ নির্ধারণ ও কিস্তি আদায়ের মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন।
সমাজসেবার অনুমতি নয়, ঋণের লাইসেন্স প্রয়োজন, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সমাজকল্যাণ, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পায়। কিন্তু ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে এমআরএ-এর লাইসেন্স গ্রহণ করা আইনত বাধ্যতামূলক। আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন, ২০০৬ অনুযায়ী এমআরএ-এর অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। সমাজসেবার লাইসেন্স দেখিয়ে ঋণ কার্যক্রম চালানো হলে তা বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অনুমোদনহীন এসব প্রতিষ্ঠানে সুদের হার অন্যান্য বৈধ সংস্থার তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি কিস্তি আদায়ের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, হুমকি ও সামাজিকভাবে হেয় করার মতো ঘটনাও ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়াই ঋণ প্রদান ও আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা গ্রাহকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে। এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সমাজসেবার নাম শুনে বিশ্বাস করেছিলাম। পরে দেখি সুদের অঙ্ক অনেক বেশি, কিস্তি দিতে দেরি হলেই চাপ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে অভয়নগরের এক সমাজসেবা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন মানেই ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার অনুমতি নয়। কেউ যদি ঋণ কার্যক্রম চালাতে চায়, তাহলে অবশ্যই এমআরএ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, আমার জানা মতে সমাজসেবার লাইসেন্স দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় না। তবে এ বিষয়ে সমাজসেবা অফিসই সঠিকভাবে বলতে পারবে আইনে কী ধরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে সমাজসেবার লাইসেন্স ব্যবহার করে পরিচালিত অননুমোদিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে সরকার এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না, যা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার জন্যও ক্ষতিকর।