মোঃমাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদান শেষ হয়েছে। শেষ সময় পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৯ জনসহ মোট ১৫ প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত।
এর আগে দিনভর শৈত্য প্রবাহ থাকায় প্রার্থীদের সকাল থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনাগোনা দেখা যায়নি। দুপুরের পর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া প্রথমে তার নির্বাচন মনোনয়ন ফরম জমা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।
পরে একে একে সব প্রার্থীদের গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত।
এ কার্যক্রম চলে বিকাল পর্যন্ত।এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনে বিএনপি, জামাত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র নেন। ১৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও এনসিপি প্রার্থী মনজিলা সুলতানা ঝুমা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বাকী ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন।
মনোনয়ন জমাদানকারীরা হলেন, ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, জামায়াতের এড. এয়াকুব আলী চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মিথিলা রোয়াজা, ইসলামি আন্দোলনের কাউছার আজিজী ইনসানিয়াত বিপ্লব মনোনীত প্রার্থী নুর ইসলাম সহ ৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা সমীরণ দেওয়ান, সোনা রতন চাকমা, ধর্মজ্যোতি চাকমা, সন্তোষিত চাকমা বকুল, জিরুনা ত্রিপুরাসহ ছয় জন।
সব প্রার্থীদের মনোনয়ন জমাদানকালে কোন ধরণের আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
মনোনয়ন জমাদান শেষে বিভিন্ন প্রার্থীরা নিরাপত্তার কথা বলেছেন। আশংকার কথা জানিয়েছেন কেউ কেউ।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া জানান, নির্বাচনের মাঠে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকা দরকার। শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতির পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা জানিয়েছেন। তিনি এর আগেও কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পতিত আ'লীগ সরকারের টানা মেয়াদে জেলায় বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মামলা, হামলা, নির্যাতনের শুকার হন। কয়েক দফায় ওয়াদুদ ভূইয়ার বাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে পতিত আ'লীগের নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান এর আগে একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। এরমধ্যে একবার নৌকা প্রতীক নিয়ে আ'লীগ থেকে একবার এবং পরেরবার ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান। এরপর থেকে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে এসে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চান, না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মনোনয়ন নেন।
সমীরণ দেওয়ান বলেন, দলীয় রাজনীতির অপমৃত্যু হয়েছে। কিছুই করার নেই। কেন্দ্র বহিস্কার করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়বেন। বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি এককথায় বলেন, এটি সম্ভব না। সমর্থন নয় বরং স্বতন্ত্র হয়ে তিনি নির্বাচনে লড়বেন।
অপরদিকে, জামায়াতের প্রার্থী এড. ইয়াকুব আলী চৌধুরী জানান, তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও বৈষম্য মুক্ত খাগড়াছড়ি গড়তে কাজ করবেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে আশংকার কথা বলেন। একইসাথে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা পৃরকাশ করেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কাউছার আজিজী বলেন, দলগত সিদ্ধান্ত আছে। জোটগত কোন বিষয় থাকলে তখন বিবেচনা করা হবে। তবে প্রার্থী হিসেবে লড়ে নির্বাচিত হয়ে পাহাড়ের মানুষের জন্যে করবেন এমনটা জানিয়েছেন।
ইনসানিয়াত বিপ্লব মনোনীত প্রার্থী নুর ইসলাম জানান, সব মানুষ ভাই ভাই মানবতার দুনিয়া চাই। মানবতার রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে আমরা প্রস্তুত। আমাদের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত বলেছেন, আমার জীবন নিরাপদ না থাকে তাহলে আমার রাষ্ট্র কখনো নিরাপদ নই। আমার রাষ্ট্র নিরাপদ থাকলে আমিও নিরাপদ। তাই ঠিক প্রতিটি মানুষের জীবন নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক মানুষকে মানবিক হতে হবে, মানুষ মানুষের প্রতি মায়া দয়া থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সবাই আমাকে দোয়া করবেন আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে পাহাড়ি বাঙালি যেন শান্তি সম্প্রীতি উন্নয়ন বজায় রেখে কাজ করতে পারি। পাহাড়ি বাঙালি বৈষম্য দূর করে মানুষের মধ্যে মানবতা সৃষ্টি করতে পারি, পাশাপাশি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাকে শান্তি শহর হিসেবে গড়ে তোলতে পারি।
৯ টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা ও ৩৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা। সংসদীয় আসন ১টি। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। জেলায় নারী পুরুষ মিলে প্রায় সমান সমান ভোটার।