হৃদয় রায়হান, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় রহস্যজনকভাবে অপহরণের শিকার হওয়ার পর পদ্মার চর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় হযরত শাহ রউফ (রা.) দরগাহ শরীফের খাদেম মো. কামাল হোসেনকে (৪০) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, দরগাহ শরীফের জমিজমা, কমিটি গঠন ও ওরশ আয়োজনকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে নিখোঁজ থাকার পর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট থেকে মানিকের চর যাওয়ার পথে পদ্মারচরের বালুর মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় কামাল হোসেনকে। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
উদ্ধার হওয়া কামাল হোসেন উপজেলার মথুরাপুর দরগাতলা এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে হযরত শাহ রউফ (রা.) দরগাহ শরীফের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন পথচারী চরাঞ্চলের বালুর মধ্যে একজন ব্যক্তিকে অচেতন ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কাছে যান। পরে তারা বুঝতে পারেন তিনি কামাল হোসেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে চিলমারী পুলিশ ক্যাম্পে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারকালে কামাল হোসেনের পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে দুর্বল ও আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। পরে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজ বাড়ির সামনে থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে পদ্মার চরে ফেলে রেখে যায়। তবে অন্ধকারে থাকায় কারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে, তা তিনি শনাক্ত করতে পারেননি বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এর আগেও গত ৯ মে কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় তার বোন রিতা খাতুন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে। এছাড়া রিতা খাতুনের গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের হার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে।
পরে কামাল হোসেন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগের এক সপ্তাহের মাথায় আবারও তার ওপর হামলা ও অপহরণের মতো ঘটনা ঘটায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, হযরত শাহ রউফ (রা.) দরগাহ শরীফে প্রতিবছর বৈশাখের ২৯ ও ৩০ তারিখ এবং ১ জ্যৈষ্ঠ ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। ওরশ উপলক্ষে বিশাল মেলা বসে এবং দূরদূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এ বছরও ওরশকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু মেলা কমিটি গঠন, দরগাহ শরীফের সভাপতির পদ এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই বিরোধ থেকেই হামলা ও অপহরণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে খাদেম কামাল হোসেনকে উদ্ধার করেছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও দরগাহর ভক্তরা। তাদের অভিযোগ, দরগাহ কেন্দ্রিক বিরোধ দিন দিন সহিংস রূপ নিচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।