মোখলেছুর রহমান ধনু,
রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বর্ষার শুরুতেই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে মেঘনানদীর তীরবর্তী এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ পাউবোর মনিটরিংয়ের অভাব ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এভয়াল ভাঙ্গন দুরবস্থা। এতে প্রতিদিনই ভাঙছে পয়েন্টের বিভিন্ন স্থান দিয়ে।
স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীর তীরবর্তী রক্ষা বাঁধে কাজ পায় এস.এ.বি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এপ্রতিষ্ঠানের চরফলকন ইউনিয়নর পশ্চিম মেঘনা নদীর তীরবর্তী ৭০০ মিটার কাজ পায় ওই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু একই সময়ে কাজ পাওয়া অন্যান্য ঠিকাদারের কাজের গুণগত মান ভালোসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কাজই সম্পন্নের পথে। কিন্তু ৭০০ মিটার কাজ পাওয়া এস.এ.বি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তীররক্ষা বাধে কাজে অগ্রগতি তেমন দেখা যায়নি। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় রফিক মাঝি, মো. আরিফ হোসেন, ইয়াছিন হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেঘনার তীররক্ষা বাঁধের কাজ হলেও আমাদের ৭০০ মিটার কাজের কোন অগ্রগতি নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের অন্যান্য জায়গার কাজের মালামাল লোড আনলোড করার কারণে তারা এই স্পটের কাজ করছেন না। ফলে আসছে বর্ষা মৌসুমে মেঘনানদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে চরফলকন ও পাটারীরহাটের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা। এতে মধ্যচরফলকন, উত্তর চরফলকন, দক্ষিল চরফলকন, পূর্ব চরফলকন ও পাটারীরহাট এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ হুমকিতে। এছাড়া কমলনগর উপজেলা প্রাণ কেন্দ্র হাজিরহাট বাজারও মারাত্মক ঝুঁকিতে।
এবিষয়ে চলতি মাসের উপজেলা সমন্বয়সভায় বিষয়টি আলোচনা হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পানি উন্নয়নবোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকিকারী শিপু নামে এক ব্যক্তি বলেন, এস.এ.বি প্রতিষ্ঠানের আওতায় প্রায় ১৭টি প্যাকেজে কাজ চলমান। তবে চরফলকন এলাকার প্যাকেজের নির্ধারিত জায়গা দিয়ে ৭০০ মিটার কাজে নদীতে জিও ব্যাগের মাধ্যমে ডাম্পিং করা ও এলোমেলো পাথর দেওয়া হয়েছে। তবে টেকসই বাঁধ হতে এখন থেকে আরো দুই বছর সময় লাগার সম্ভাবনা বলে জানান তিনি।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাহাত উজ জামান বলেন, মেঘনানদীর তীর রক্ষা বাঁধের কাজে অগ্রগতির জন্য আমরা তৎপর রয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খান বলেন, মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধের কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। কিছু কিছু পয়েন্টের কাজ দৃশ্যমান এস.এ.বি’র ৭শ মিটার কাজের অগ্রগতি অনেক কম । পুরোদমে কাজ করার জন্য আমাদের মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।