নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শাজাহানপুরে প্রতিপক্ষের জায়গা ঘেঁষে কোনো জায়গা না রেখেই অনিয়মে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ করার অভিযোগ উঠেছে অপর প্রতিপক্ষ একই এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক মহিউল আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের বি-ব্লক রহিমাবাদ উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
এঘটনায় মৃত আজিজুর রহমানের মেয়ে রিক্তা মিস তেরমিজী রহমানের বড় ভাই মুক্তাদির রহমান বিজ্ঞ অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বগুড়া বরাবর মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলা সূত্রে বিবাদমান সম্পত্তিতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকার জন্য ও এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নিমিত্তে ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করে নোটিশ প্রদান করেছেন। এমনকি অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাদমান সম্পত্তির উত্তরাধিকার বলে উভয়ের মধ্যে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত কেউ ওই জায়গায় কোনো নির্মাণ কাজ করতে পারবে না।
সরেজমিনে, বাদী পক্ষের রিক্তা মিস তেরমিজী রহমান বলেন, আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ মৌজার সাবেক ৬২৬ ও হাল ১০২২ দাগে ২৮ শতকের কাতে ১৪.৫ শতাংশ জমির ক্রয় সূত্রে মালিকানাধীন সম্পত্তিতে আমার দখলে আছে। সেই সম্পত্তিতেই চলাচলের জন্য রাস্তা রেখে বিগত ২৮ বছর পূর্বে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা রয়েছে। একই দাগে আমার বিবাদীগণ ৩.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসছে।এমতাবস্থায় আমার প্রতিপক্ষগণ জোরপূর্বক আমার সম্পত্তির উপর নির্মাণ করা গাইড ওয়াল ভেঙ্গে দিয়ে কোন প্রকার জায়গা না রেখে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এতে আমি তাৎক্ষণিক বাধা দিলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরে আমি নিরুপায় হয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হই।
এ ঘটনায় বিবাদী মহিউল আলমের নিজ স্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের নিজের জায়গার উপর সঠিক নিয়মে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এতে প্রতিপক্ষগণ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তাদের অভিযোগ সাপেক্ষে আমাদের নির্মাণ কাজ পুলিশ এসে বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের ভবন যদি তাদের জায়গার ভিতরে ঢুকে পড়ে তাহলে মাপযোগ করে সরিয়ে নিতে হলে নিব। আর যদি তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন হয় তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শাজাহানপুর থানার এএসআই আবু তাহের। তিনি জানান, ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উক্ত বিবাদমান সম্পত্তিতে আদালত কর্তৃক ১৪৪/১৪৫ ধারা জারির নোটিশ উভয়ের পক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।