নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি দল নিজেদের মধ্যে সিএনজি স্ট্যান্ড, দখলবাজি, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সংঘর্ষে প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছে। "যে দলের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে নিজেরা মারা যায় তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়"।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় মাঝিড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
এসময় উপজেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রিয় বাংলাদেশে আল্লাহর আইন এবং সৎ লোকের শাসন কায়েম করতে চায়। আল্লাহর খলিফা করে মানুষকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তিনটি দল দেশ শাসন করেছে এর মধ্যে একটি দল দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এই উপমহাদেশে সৃষ্টি আলেম, বর্ষিয়ান নেতাদের প্রহসনের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এই শাজাহানপুরে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর ৫ জন শহীদ হয়েছেন। এখানেই আল্লামা ফকির আব্দুর রহমান শায়িত আছেন। আরেকটি দল ভোট ছাড়া ৯ বছর শাসন করেছে। ভারতের দালালী করতে গিয়ে তৃতীয় দল ক্ষমতায় থেকে ৫ বার দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এজন্য সৎ লোকের শাসন দরকার। বাংলাদেশে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। জুলাই বিপ্লব কোনো দলের নেতৃত্বে হয়নি। সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। এই আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। এই বাংলাদেশ কারো বাপের, কোনো দলের নয়। বাংলাদেশ সবার। এই বাংলাদেশ কাদের এটা নির্ধারিন করে এদেশের জনগণ আগামী নির্বাচনে। বাংলাদেশে দূর্নীতি বন্ধ করতে পারলে এদেশ সোনার দেশে পরিণত হবে। মহিলারা মায়ের জাতী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে নারীরা সর্বোচ্চ মর্যাদা পাবে। একজন সুন্দরী রূপসী নারী চলাফেরা করবে কেউ ক্যু নজরে তাকানোর সাহস পাবেনা। একজন নারী যেখানে খুশি সেখানে চাকরি করতে পারবে। জামায়াতের কোনো নেতার হাতে কোনো হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানরা নির্যাতন হয়নি। অমুসলিমরা এখন জামায়াতে ইসলামীকে নিরাপদ মনে করতেছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো দলের সরকার নয়। যদি কোনো উপদেষ্টার রাজনীতি করার ইচ্ছা থাকে তাহলে উপদেষ্টা পদ ছেড়ে রাজনীতি করুন। প্রশাসনকে বলবো নিরপেক্ষ থাকুন। নির্বাচনে লেভেল প্লিং ফিল তৈরি করতে হবে। গণভোট আগে দিতে হবে। জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে এ জাতিকে বিভ্রান্ত করা যাবেনা। এই বাংলাদেশ আওয়ামী স্টাইলে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী, দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায় দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভোট চাইতে হবে। আমরা কারো চক্ষু রাঙানিকে ভয় পাই না। আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বাংলাদেশকে সাজাতে চাই।
সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বগুড়া-৭ সংসদীয় আসনে এমপি প্রার্থী গোলাম রব্বানী।
প্রধান আলোচক বলেন, আমি নির্বাচিত হলে বেকার যুবক ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করবো। চাঁদাবাজ মুক্ত এলাকা গড়ে তুলবো।
সম্মেলনে উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হাকিম সরকার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল মতিন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাসেদ, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, জেলা বায়তুলমাল সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল্লাহিল বাকী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ প্রমূখ।