ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিধনি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে অর্ধশত বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দড়ি টানা ডিঙি নৌকায় নদী পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা, যার ফলে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
সলঙ্গা-ধামাইকান্দি সড়কের মাঝে অবস্থিত চরবেড়া খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন চরবেড়া, তেলকুপি, গোজা, সাতটিক্রি, মানিকদিয়ার, দিয়ারপাড়া, ভরমোহনীসহ প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। ইউনিয়ন পরিষদ, সলঙ্গা বাজার, ডাকঘর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সলঙ্গা থানা এবং একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। কিন্তু এখানে একটি সেতু না থাকায় স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা একটি পুরনো ডিঙি নৌকা।চর গোজা গ্রামের বৃদ্ধ ইছহাক মিয়া ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "আশায় আশায় ৫০ বছর পার করলাম, কিন্তু সেতুর মুখ দেখলাম না। কত এমপি-চেয়ারম্যান কথা দিল, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।" তার মতো গ্রামের আরও অনেকের কণ্ঠেই ছিল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ার হতাশা।
এলাকাবাসী জানায়, খেয়াঘাটের মাঝি ষষ্ঠি চন্দ্র দাস বার্ধক্যের কারণে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। তখন স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই দড়ি টেনে নৌকা পার করতে হয়। চরবেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিম খাতুন ও মাহিম রেজা জানায়, অনেক সময় নৌকা পার হতে গিয়ে তাদের বই, খাতা ও পোশাক পানিতে ভিজে যায়, যা তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে।এ বিষয়ে সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্টু জানান, তারা সেতু নির্মাণের জন্য বহুবার চেষ্টা করেও রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সাড়া পাননি।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, "ঝপঝপিয়া নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।" এখন এই অনুমোদনের দিকেই তাকিয়ে আছে দুর্ভোগে থাকা হাজারো মানুষ।