মো: কামকল হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি:
যশোরের অভয়নগরে প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক বিয়ের নায়ক শিমুলের বেপরোয়া প্রতারণায় নিঃস্ব একাধিক পরিবার। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে একজন ইটভাটা শ্রমিক শিমুলের অনলাইন জুয়া খেলার মাধ্যমে কোটিপতি বনে যাওয়া শিমুল এখন বেপরোয়া। ফলে এলাকার একাধিক মানুষের সাথে প্রতারণা করার একাধিক তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, অনলাইন জুয়া খেলে কয়েক বছরের ব্যবধানে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে একসময়ে ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করা শিমুল। সে উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের বনগ্রামে গোলাম রসুলের নাতি। সূত্রে জানা যায়, নানা বাড়িতে মা রেহেনা বেগম-কে নিয়ে বসবাস করে। প্রতারক শিমুলের ফেসবুক পেজ প্রবাসীদের আড্ডা, লাভার বয়, ume এর মাধ্যমে দেশে ও প্রবাসে থাকা নারী, পুরুষদের টার্গেট করে গড়ে তুলেছে অনলাইন জুয়ার ব্যবসা। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, তার পেজের মাধ্যমে নারীদের দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অসামাজিক কাজ পরিচালনা করে হাতিয়ে নেই লাখ লাখ টাকা। আল্প দিনের ভিতরে তার এই পরিবর্তন দেখে এলাকাবাসী রীতি মতো হতবাক। অনুসন্ধান করে জানা যায়, শিমুল এর বাবা মো হাবিবুর রহমান তার মাকে রেখে চলে যায়। সেই থেকে শিমুলের নানা গোলাম রসুলের বাড়িতে এসে মায়ের সাথে শিমুল বসবাস শুরু করে। সেই থেকে তার মা নওয়াপাড়ায় একটি জুট মিলে শ্রমীকের কাজ করে সংসার চালায়। মায়ের রোজগারে সংসার চলছিল না, তাই শিমুলকে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে হয়। তার কাছের কিছু মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় ছেট বেলা থেকে খুব ধুরন্ধর প্রকৃতির শিমুল। এরি মাঝে তিনটি বিয়ে করে। আগের দু'টি স্ত্রী কে বিদায় দিয়ে তৃতীয় স্ত্রী কে নিয়ে সংসার করতে থাকে। তৃতীয় স্ত্রী সংসারে উন্নতির কথা চিন্তা করে, ভাটার কাজে পরিশ্রম দেখে তার নিজ টাকা দিয়ে একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক স্বামী শিমুল কে কিনে দেয়। ইজিবাইক বিক্রি করে আরও টাকা যোগাড় করে দিয়ে তৃতীয় স্ত্রী স্বামীকে মালয়েশিয়া পাঠান। সেখানে গিয়ে শিমুল বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার ও মাদক সেবন এর সাথে জড়িয়ে পড়ে। বিদেশ থেকে ফিরে এসে দেশের মাটিতে বসেই অনলাইন জুয়ার কাজটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে । এই অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে যুবসমাজ সর্ব শান্ত হচ্ছে এমনটি বলছে সচেতন মহল। তার প্রধান টার্গেট বিদেশে থাকা নারী-পুরুষ । তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রবাসীদের আড্ডা, লাভার বয়, নামের পেজে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীদের আকৃষ্ট করে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে কিছু দিন না যেতেই সবকিছু হাতিয়ে নিয়ে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে। আগের তিন স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আরও ২ নারীকে বিয়ে করে। ওই নারীরা তার সত্যি কারের চরিত্র জানতে পেরে দুই জনি চলে যায়। কিছু দিন হলো আবারও একটি বিয়ে করেছে। এনিয়ে ৬ টি বিয়ে করেছে বলে জানান তার এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশনাকরার শর্তে তার এক প্রতিবেশি সাথে কথা বলে জানা যায় , তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে মুস্তাকিন (১১) নামে একটি ছেলে আছে। সে এখন ঝিনাইদহ শহরে একটি চা স্টলে কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। বাবা হিসেবে তার কোন খবর রাখেন না শিমুল। এছাড়াও তার আরোও দুই স্ত্রীর ঘরে একটি ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খোলেনা। কেউ যদি তার বিরুদ্ধে কথা বলে তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়৷ এলাকাবাসীর দাবি যুবসমাজ কে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত করছে শিমুল। এতে করে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে ধনী হওয়ার ইচ্ছে করছে এমন যুবক তার পছন্দের তালিকায়। এলাকাবাসীর দাবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই জুয়ার সাথে যুক্ত শিমুল ও তার সহযোগিদের আইনের আওতায় নিয়ে৷ যুবসমাজ কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে । অনলাইন জুয়ার বিষয়ে প্রতারক শিমুল এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা একটি চায়না কোম্পানি এখানে ছেলে মেয়েরা আড্ডা দিয়ে টাকা ইনকাম করে। সবাই চাইলেই কাজ করতে পারে না। অন্যদিকে ওই এলাকার উঠতি বয়সী যুবসমাজের যুবকদের ওই অনলাইন জুয়া খেলার অজুহাতে মাদকসেবনসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ার কৌশলে সক্রিয় ভাবে জড়িত ওই প্রতারক শিমুল। ফলে ওই এলাকার একাধিক পরিবারের অভিভাবকমহল জরুরি ভাবে প্রতারক শিমুলের কর্মকান্ড বন্ধসহ তাকে আটক করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।