নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শাজাহানপুরে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। নিজ শয়নকক্ষে বটি দিয়ে দুই শিশু সন্তানকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার পর মা নিজেও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় বইছে শোকের মাতম।
ঘটনাটি ঘটেছে ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শাজাহানপুর উপজেলার খট্টাপাড়া ইউনিয়নের খলিশাকান্দি গ্রামে। এ ঘটনায় স্বামী শাহাদাত হোসেন কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয় সূত্রেজানা যায়, নিহত নারীর নাম মোছাঃ সাদিয়া মোস্তারিম (২৪)। তাঁর স্বামী মোঃ শাহাদত হোসেন সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক এবং তিনি ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত। গত বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে সৈনিক শাহাদাত নিজ বাড়িতে ছিলেন। নিহত দুই শিশু হলো তাঁদেরই সন্তান মোছা: সাইফা (৪) মোঃ সাইফ (১) সাদিয়া মোস্তারিম তাঁর দুই শিশু সন্তানকে প্রথমে ধারালো বটি দিয়ে গলায় পোঁচ দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজ ঘরের তালার (তীর/আড়ার) সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার সময় শিশুদের পিতা ও সাদিয়া মোস্তারিমের স্বামী মোঃ শাহাদত হোসেন সকালে নাস্তা খেতে বাড়ির বাইরে যায়। বাড়ি ফিরে দেখে তার শয়নকক্ষ ভিতরে বন্ধ করা। এমন সময় সে ঘরের দরজায় ডাকাডাকি ও ধাক্কাধাক্কি করে। এতে সে আতঙ্কিত হয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে দরজা ভেঙ্গে স্ত্রী কে গলায় ফাঁস লাগানো ও দুই সন্তানের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় স্ত্রীর মরদেহ মাটিতে নামিয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ গুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, বর্তমানে শাজাহানপুর থানাধীন খলিশাকান্দি গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে এই ভয়াবহ ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ নাকি অন্য কোনো কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় একটি হত্যা ও আত্মহত্যার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এডিশনাল এসপি আবু রায়হান জানান, ভিকটিমের ঘর থেকে মরদেহ গুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।