হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি, নেত্রকোনা- সুনামগঞ্জ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে সোহাগ মিয়া (৪৫) নামে এক ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তার মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে মোহনগঞ্জের সুয়াইর থেকে আটপাড়া সড়কের বাউশা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোটরসাইকেল চালক সোহাগ মিয়া পাশের খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি গত প্রায় ৫ বছর যাবত ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী আজিদা আক্তার।
পুলিশ, হাসপাতাল ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মেন্দুপুর গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে সোহাগ মিয়া গত প্রায় ৫ বছর যাবত ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি মোহনগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি তার অসুস্থ স্ত্রী আজিদা আক্তারের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে আসেন। পরে সেখানে তিনি ঘন্টা খানেক সময় স্ত্রীর পাশে অবস্থান করেন। পরে তিনি হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে গিয়ে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে পেশাগত কাজে চলে যান। এ অবস্থায় ওইদিন রাত সাড়ে দশটার দিকে মোহনগঞ্জ- আটপাড়া সড়কের বাউশা নামক স্থানের নির্জন রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল চালক সোহাগকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান অন্য মোটরসাইকেল চালকেরা। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সোহাগকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে এসময় তার শরীরের ডান পাজরে গভীর ছুরিকাঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। পরে খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ থানা-পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহত সোহাগের মরদেহটি উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তী নিহত মোটরসাইকেল চালক সোহাগের স্ত্রী আজিদা আক্তার রাতেই জরুরি বিভাগে ছুটে আসেন এবং সেখানে স্বামীর মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় তিনি বলেন, ছোট-ছোট চারটি সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব, কি করব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা। আমার স্বামীকে যারা মেরে মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম পিপিএম বলেন, মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিতেই হয়তো এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে আমরা মোহনগঞ্জ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। তবে ঘটনাস্থল যেহেতু আটপাড়া থানায় সে জন্য এ ব্যাপারে আটপাড়া থানাতেই মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছি নিহতের স্বজনদেকে।