ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি সেতু এখন এলাকাবাসীর উপকারের বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু দুটি যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় কৃষকরা সেতু দুটিকে ধান, খড় ও গোবরের ঘুঁটে শুকানোর চাতাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সরেজমিনে জেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট্ট খালের ওপর ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ৩২ ও ৪৪ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২৩ সালে সেতু দুটি নির্মাণ করলেও প্রায় আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও এর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, কুড়ালিয়াদিয়ার-একডালা সড়কের প্রায় ৭০০ মিটার অংশ তিন বছর আগে বন্যার পানিতে ভেঙে খালে বিলীন হয়ে গেছে। সেই ভাঙা অংশটুকু আর সংস্কার না হওয়ায় সেতু পর্যন্ত কোনো রাস্তাই নেই।
এর ফলে রতনকান্দি ও পার্শ্ববর্তী কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ২৫ বছর আগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এই রাস্তাটি আর সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসীর দুঃখের শেষ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব আলী ও বেবি খাতুন বলেন, "প্রতি বছর অফিসাররা এসে মাপামাপি করে যান, কিন্তু রাস্তা আর হয় না। দুটি ব্রিজ হলো, কিন্তু রাস্তা না থাকায় আমাদের গাড়িতে চড়ার ভাগ্য হলো না। অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যে কী কষ্টের, তা বলে বোঝানো যাবে না।"
রাস্তা না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক ও শিক্ষার্থীরা। হাবিবুর রহমান নামে এক কৃষক বলেন, "রাস্তা না থাকায় সময়মতো সার-বীজ আনা-নেওয়া করা যায় না। আবার উৎপাদিত ফসল হাটে তুলতে না পারায় আমরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। অনেক পথ ঘুরে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় ও টাকা দুটোই বেশি লাগছে।"
কলেজছাত্র শিহাব বাবু ও সাগর আলী জানায়, এই ভাঙা রাস্তার কারণে তাদের কলেজে যেতে চরম কষ্ট হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান বলেন, "কুড়ালিয়াদিয়ার-একডালা সড়কের একটি বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় সেখানে সরকারি কোনো রাস্তা নেই। রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা যদি সম্মিলিতভাবে রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নির্ধারণ করে দেন, তবে আমরা দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করব।"
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতু দুটিকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হোক, যাতে দুই ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।