হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি, নেত্রকোনা- সুনামগঞ্জ
সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন ও শাহবাগে প্রাথমিক শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় রবিবার দিনব্যাপী পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।
সকাল থেকেই উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রেখে শিক্ষকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তাঁরা “১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করো, প্রাথমিক শিক্ষা বাঁচাও” ও “শিক্ষকদের রক্ত ঝরলে শিক্ষা রক্তাক্ত হয়”—এমন স্লোগান তোলেন।
মধ্যনগর সদর, মাছিমপুর, চামরদানি, বংশীকুন্ডা, ঘাসী, মহিষখলা ও বাকাতলাসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে একই কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় অভিভাবকেরা জানান, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মানা উচিত, কারণ শিক্ষক বঞ্চিত হলে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চামরদানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করি, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন হয়নি। এটি শুধু বেতন নয়, শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়। শাহবাগে সহকর্মীদের ওপর হামলা দুঃখজনক। আমরা চাই দ্রুত ন্যায্যতা ও শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
বাকাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিমুল এহসান বলেন, আমরা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি গড়ছি, অথচ বছরের পর বছর আমাদের দাবি ঝুলে আছে। একজন প্রশিক্ষিত ও যোগ্য শিক্ষক ১৩ বা ১৪তম গ্রেডে পড়ে থাকেন—এটা হতাশাজনক। অবিলম্বে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করে শিক্ষকদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শাহবাগে সহকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছিলেন, তাঁদের ওপর হামলা মানে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আঘাত।
মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, বহু বছর ধরে ১০ম গ্রেডের দাবি জানানো হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শাহবাগে হামলার পর সারা দেশের মতো মধ্যনগরের শিক্ষক সমাজও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষকদের দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা আশাবাদী, দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে শিক্ষক সমাজ ঘোষণা দেয়, সরকার যদি দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না করে, তবে তাঁরা আগামী সপ্তাহ থেকে ধারাবাহিক আন্দোলনে যাবেন।
মধ্যনগর উপজেলা শিক্ষক সমাজের আন্দোলনে অবস্থানরত শিক্ষক নেতাদের মতে, শিক্ষকদের ওপর হামলার বিচার ও ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন—এই দুই দাবিই এখন আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। ন্যায্য দাবি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকদের মধ্যে নতুন উদ্যম সৃষ্টি হবে, যা সরাসরি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।