নিজস্ব প্রতিনিধি:
নাটোর জেলার দিয়ার বাহাদুরপুর বালুমহালকে কেন্দ্র করে বৈধ ইজারাদার ইঞ্জিনিয়ার কাকনের বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী চক্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় বেল্লাল মণ্ডল নামে এক সন্ত্রাসীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাটোর জেলা প্রশাসন চলতি বছর ৯ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকায় মোল্লা ট্রেডার্সকে দিয়ার বাহাদুরপুর বালুমহাল ইজারা দেয়, যা ইঞ্জিনিয়ার কাকন পরিচালনা করছেন। কিন্তু সম্প্রতি ঈশ্বরদীর বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু জেল থেকে মুক্তি পেয়ে এই মহালের দিকে নজর দেন এবং বৈধ ইজারাদারের কাছে প্রতিদিন পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পিন্টু ও তার সহযোগীরা ইঞ্জিনিয়ার কাকনের বিরুদ্ধে 'কাকন বাহিনী' নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জাকারিয়া পিন্টু ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নদীপথে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। পিন্টুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যদিও পিন্টু প্রভাবশালী হওয়ায় ঈশ্বরদীর স্থানীয় গণমাধ্যম তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে অপারগতা দেখায়, পাবনার কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তার চাঁদাবাজির খবর প্রকাশিত হয়।
থানা রেকর্ড অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ার কাকনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে পিন্টুর করা দুটি মামলা ছাড়া আর কোনো মামলা নেই। অথচ জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ৬২টি মামলার রেকর্ড রয়েছে।
ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জাকারিয়া পিন্টু রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী বেল্লাল মণ্ডলকে ব্যবহার করে নতুন চক্রান্ত শুরু করেছেন। বেল্লাল মণ্ডলের বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অস্ত্র পাচার, হুন্ডি ব্যবসা, জমি দখল এবং চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বাঘা, চারঘাট, লালপুর, দৌলতপুর ও ভেড়ামারা থানায় হত্যা, মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
পারিবারিকভাবে ইঞ্জিনিয়ার কাকন এক সম্মানিত পরিবারের সন্তান, যার নানারা শিক্ষক ছিলেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে চরে প্রায় ১৮০০ বিঘা জমির মালিক। অন্যদিকে, বেল্লাল মণ্ডলের বাবা ও চাচারা কাকনের নানার বাড়িতে কাজ করতেন এবং বেল্লাল নিজেও সেখানে গরু চরানোর কাজ করত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেল্লাল মণ্ডলের অপরাধ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে আজকের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়ানো যেত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।