ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় এক রোহিঙ্গা নারীকে জন্ম সনদ দেওয়ার অভিযোগে ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব নুরে আলমের স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। তবে, বরখাস্তের বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশ্যে আসে।
ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি গত ২০ অক্টোবর ইস্যু হলেও প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ৩ নভেম্বর সেটি হাতে পান এবং এরপরই তিনি তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
এর আগে, গত ২৫ আগস্ট রোকেয়া বেগম (৩২) নামের ওই রোহিঙ্গা নারী তার স্বামী আনিসকে নিয়ে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার তালিকাভুক্ত হতে গেলে আটক হন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রোকেয়া স্বীকার করেন যে তিনি কক্সবাজারের উখিয়া টেংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একজন সদস্য। এই ঘটনায় পরবর্তীতে কামারখন্দ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া প্যানেল চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী দাবি করেছেন, তার স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আমার স্বাক্ষর নকল করে ওই রোহিঙ্গা নারী নাগরিকত্ব সনদ নিয়েছে। তবে স্বাক্ষর নকল হলেও সনদটি ইউনিয়ন পরিষদের। ওই নারী কীভাবে এটি সংগ্রহ করল, তার জবাব কারণ দর্শানোর নোটিশে দেওয়া হবে।"
এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও সনদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জালিয়াতির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।