ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
গত আগস্টে নিখোঁজ হওয়া সলঙ্গার অটো মিশুকচালক আমিরুল ইসলামের (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটিত হয়েছে। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর একটি ডোবা থেকে তার কঙ্কাল উদ্ধারের সূত্র ধরে পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস মামলার জট খুলেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও নিবিড় গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত অটো মিশুকের যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আসামিরা আদালতে লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সলঙ্গা থানার অলিদহ গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম গত ৫ই আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ভাড়ার উদ্দেশ্যে তার অটো মিশুক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। তার পরিবার সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে সলঙ্গা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। এর দীর্ঘদিন পর, গত ১৮ই অক্টোবর, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চক নিহাল গ্রামের একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে ভাসমান একটি কঙ্কাল দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আমিরুলের মা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নিহতের পরনের প্যান্ট দেখে কঙ্কালটি তার নিখোঁজ ছেলে আমিরুলের বলে শনাক্ত করেন, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলে।এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সলঙ্গা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি হাতে পাওয়ার পর সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ফারুক হোসেনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব মোঃ হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল তদন্তে নামে। দলটি তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।অভিযানের এক পর্যায়ে পুলিশ সলঙ্গার চক নিহাল গ্রাম থেকে মোঃ সাহেব আলী প্রামানিক (২৫) ও মোঃ মনিরুজ্জামান সরকার (৪৪) এবং তাড়াশ উপজেলা থেকে মোঃ আব্দুল আজিম প্রামাণিককে (৩১) গ্রেপ্তার করে।জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমিরুলের অটো মিশুকের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল গাড়ির হ্যান্ডেল, মিটার, হেডলাইট, তিনটি টায়ারসহ লোহার বডি এবং ৪টি ব্যাটারি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। তারা কীভাবে আমিরুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে অটো মিশুকটি লুট করেছে, তার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। পরবর্তীতে তাদের আদালতে পাঠানো হলে তিনজনই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।এই সফল অভিযান প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে তারা সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।