রাশেদুজ্জামান রিমন, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১১৫টি পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পুনঃপরীক্ষার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। রোববার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র–জনতা মঞ্চ। সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, সুলতান মারুফ তালহা, আলী মুজাহিদ, মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ, হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইমরানসহ অন্য নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়ার প্রশাসনিক কাঠামোর গভীরে দুর্নীতির শিকড় প্রোথিত হয়েছে, আর প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তারই স্পষ্ট প্রতিফলন। তারা বলেন,
“প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়েই যদি দুর্নীতি আশ্রয় পায়, তবে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়? আপনাদের বেতন আমাদের কষ্টার্জিত টাকায় অতএব চোখে ধুলো দেওয়া বন্ধ করুন, সৎ পথে চলুন। বিক্ষোভকারীরা জানান, দুদক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্তে কুষ্টিয়ার এডিসি জেনারেল (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শাহাদত হোসেন কবির, পিইসি খুলনার উপপরিচালক নাসরিন সুলতানা, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. হোসেন ইমাম এবং তার ভাই স্বাস্থ্য সহকারী হাসান ইমাম (নান্নু)সহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তারা অবিলম্বে ফাঁস হওয়া পরীক্ষা বাতিল করে ১৫ দিনের মধ্যে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পুনঃপরীক্ষার দাবি জানান।পাশাপাশি পুরোনো নিয়োগ কমিটি বাতিল করে নতুন নিরপেক্ষ কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।