লংগদু (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি | মোঃ এরশাদ আলী
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বাগাচতর মহাজনপাড়া মাদ্রাসার চারজন দাখিল পরীক্ষার্থীকে আটকে রেখে ৮ জন মিলে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক সাগরের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া এলাকার ওলাকতের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১০ মে (রবিবার) তারা লংগদু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনার শিকার হন। লংগদু লঞ্চঘাট থেকে নৌকা পার হয়ে তারা মোটরসাইকেল স্টেশনে পৌঁছান। সেখানে যানবাহন না পেয়ে তারা একসঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
এ সময় সাগর নামের মোটরসাইকেল চালক সেখানে এসে উপস্থিত হন। ছেলে শিক্ষার্থীরা তাকে তাদের নিয়ে যেতে বললে তিনি মেয়েদের ডেকে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং দুইজন মেয়ে শিক্ষার্থীকে মোটরসাইকেলে ওঠান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ছেলেদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। এরপর স্থানীয় আরও কয়েকজনসহ মোট ৮ জন মিলে চার শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— সাকিবুল হাসান (১৭), রিফাত (১৬), ইয়াছিন (১৭) ও রাকিবুল ইসলাম (১৭)।
প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তারা ১২ মে পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের লংগদু সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
অভিযুক্ত সাগর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে প্রথমে মারধরের চেষ্টা করা হয়। তিনি আত্মরক্ষার্থে ধাক্কা দেন এবং পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে দাবি করেন।
মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মাওলানা শাহজাহান ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিভাবকরা শাহ আলমকে বাদী করে লংগদু থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।