নিজস্ব প্রতিবেদক
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার সলঙ্গা থানার চকনিহাল এলাকার একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে এক ব্যক্তির কঙ্কাল। কঙ্কালের সাথে থাকা পোশাক দেখে এটিকে নিজের নিখোঁজ ছেলের বলে শনাক্ত করেছেন এক মা। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে চকনিহাল এলাকার এক কৃষক মাঠে কাজ করার সময় পাশের একটি ডোবার কচুরিপানার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক জিনিস লক্ষ্য করেন। কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান মানুষের হাড়গোড়ের মতো কিছু পড়ে আছে। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে সলঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় ডোবায় তল্লাশি শুরু করে। প্রথমে তারা একটি প্যান্টের ভেতর থেকে দুটি পায়ের হাড় উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে আরও তল্লাশি চালিয়ে মাথার খুলিসহ শরীরের অন্যান্য অংশের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, “ঘটনাস্থল থেকে আমরা মানুষের কঙ্কালের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি গত ৯ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ থাকা অটোরিকশাচালক আমিনুল ইসলাম (২৫)-এর কঙ্কাল। কঙ্কালের সঙ্গে পাওয়া পোশাক দেখে আমিনুলের মা মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেছেন।”
আমিনুল ইসলাম সলঙ্গা থানার অলিদহ দক্ষিণপাড়া গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে। গত ৯ অক্টোবর তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
ওসি আরও জানান, “আমরা ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কঙ্কালটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।”
স্থানীয়দের ধারণা, আমিনুলকে হত্যা করে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়া হতে পারে। তবে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এলাকায় এখনো শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।নিখোঁজ ছেলের কঙ্কাল পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন আমিনুলের মা। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেটা একদিন রিকশা নিয়ে বের হয়েছিল, আজ ওর হাড়গোড় পেয়েছি।”
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন