কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত টমেটো এখন চাষ হচ্ছে গ্রীষ্মকালেও। প্রচলিত ধারণাকে পেছনে ফেলে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কৃষক রাজু আহম্মেদ (৩৫)। তাঁর এ সাফল্য এলাকায় অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
রাজু আহম্মেদ ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের স্বরুপের ঘোপ এলাকার বাসিন্দা। তিনি জাহার আলী বক্সের ছেলে। এবার প্রথমবারের মতো এক বিঘা জমিতে বারি টমেটো-৮ জাতের টমেটো চাষ করেছেন তিনি। অনুকূল আবহাওয়া ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় জমিতে ভালো ফলন হয়েছে।
কৃষক রাজু আহম্মেদ জানান, টমেটো একটি লাভজনক ফসল। প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে তিনি আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এক বিঘা জমিতে চাষ করতে তাঁর প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে আগের ব্যবহৃত বাঁশ, খুঁটিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ থাকলে উৎপাদন খরচ আরও কমানো সম্ভব। সব খরচ বাদ দিয়ে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। চাষাবাদের শুরু থেকেই উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা মো. লালন বলেন, সারা বছর টমেটো উৎপাদন করা সম্ভব হলে কৃষকের আয় বাড়বে। পাশাপাশি বাজারে টমেটোর সরবরাহ ও চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সদরুল ইসলাম জানান, গ্রীষ্মকালীন টমেটোর জন্য তাপসহনশীল জাত নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব জাতের ভালো ফলন পেতে বাড়তি যত্ন ও পরিচর্যা প্রয়োজন। পলিথিন শেড ব্যবহার এবং মালচিং পদ্ধতি অনুসরণ করলে উৎপাদন ভালো হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শীতকালীন টমেটোর তুলনায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো উৎপাদনে খরচ বেশি হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের লাভের সুযোগও বেশি। চলতি মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন টমেটো কেজিপ্রতি ১২০ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে রাজু আহম্মেদকে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের একটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছিল। তিনি উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকার পাশাপাশি কৃষিকাজেও সফলতা অর্জন করেছেন। তাঁর এ উদ্যোগ অন্য কৃষকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।
ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা. মাহমুদা সুলতানা বলেন, রাজু আহম্মেদের এ সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভেড়ামারার কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। তাঁর উদ্যোগ অনুসরণ করে এখন অনেক কৃষক সারা বছর টমেটো চাষের বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগ খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করা গেলে গ্রীষ্মকালেও টমেটো চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এতে মৌসুমি সবজির ঘাটতি কমার পাশাপাশি কৃষকের আয় বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।