মিলন কুমার
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের ডিলার নিয়োগ, অবৈধ মজুত ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সারের মজুত, সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ে সার বিতরণে বিভিন্ন অসংগতির বিষয় উঠে আসে।
স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব অভিযোগ সরেজমিনে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান সারের অবৈধ মজুত, জালিয়াতি ও বিতরণব্যবস্থার অনিয়ম সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রস্তাব দেন।
পরে তাঁর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দীন বাবুল ও মোছা. সাবিরা সুলতানা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, যেসব জেলা ও এলাকায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি।
যেসব এলাকায় ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি, সেখানে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। আর যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে লালমনিরহাট, বরগুনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, নওগাঁ ও যশোর—এই ছয় জেলার সার ডিলারশিপ নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. রোকন উদ্দীন বাবুল, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোছা. সাবিরা সুলতানা ও মো. গোলাম রছুল উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বৈঠকে কৃষি সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।