কাগজ ডেক্স:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ জেলার পাঁচজন কৃতী শিক্ষার্থী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তাঁদের ঐতিহাসিক সাফল্য জেলার শিক্ষাঙ্গন ও সুশীল সমাজে এক গভীর গর্ব ও আনন্দের আবহ সৃষ্টি করেছে।
এই পাঁচজন নবনির্বাচিত শিক্ষার্থী নিজ নিজ হলের শিক্ষার্থীদের ভোটে আস্থা অর্জন করে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের এই জয় সিরাজগঞ্জের শিক্ষা ও নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের অঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
হল সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ পদে বিজয়ীরা
পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
১. সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে রবিউল ইসলাম:
শাহজাদপুর উপজেলার কৃতি সন্তান এবং গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অমর একুশে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন। হলের শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি এই পদে জয়ী হয়েছেন।
২. সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মহসীন উদ্দিন (শাফি):
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রায়পুর (মুন্সিবাড়ী) গ্রামের বাসিন্দা এবং গণিত বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মোঃ মহসীন উদ্দিন (শাফি) বিপুল ভোটে ফজলুল হক মুসলিম হলের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হয়েছেন। হলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
৩. সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শাহীন আলম:
বেলকুচি উপজেলার আজগড়া গ্রামের ছাত্র শাহীন আলম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হয়েও সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদটি অর্জন করেছেন। তাঁর এই বিজয় শিক্ষাঙ্গনে তাঁর দৃঢ় প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক।
অন্যান্য পদে নির্বাচিত দুই মুখ
এছাড়া, আরও দুজন শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে জেলার সুনাম বাড়িয়েছেন:
৪. সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ফজলে রাব্বী সরকার:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জানপুর গ্রামের সন্তান মোঃ ফজলে রাব্বী সরকার, যিনি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনা করছেন, তিনি কবি জসীম উদ্দীন হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। হল ক্যাম্পাসে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা প্রসারে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
৫. সদস্য পদে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ:
একই হলে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রায়গঞ্জ উপজেলার পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামের বাসিন্দা, সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি হলের সামগ্রিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জেলার শিক্ষাবিদ ও জনগণের প্রতিক্রিয়া
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা ও কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁরা সবসময় পাশে থাকবেন।
এদিকে, জেলার শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকরা তাঁদের এই অসামান্য অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতে জেলার তরুণ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা ও জাতীয় নেতৃত্বদানে আগ্রহী করে তুলতে এবং তাদের মধ্যে ইতিবাচক নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশে এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এই জয় সিরাজগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনের জন্য এক নবদিগন্ত উন্মোচন করল।