মোঃ মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির লোগাং ইউনিয়ন দলনেতা মোঃ জসিম উদ্দিন নিজ উদ্যোগে একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে একটি সাকু (বাঁশের সাঁকো) নির্মাণ করে ২নং চেঙ্গি ইউনিয়ন থেকে ১নং লোগাং ইউনিয়নে স্কুল শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের পথ তৈরি করেছেন। তার এই পদক্ষেপ স্থানীয় সমাজে মানবসেবার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চেঙ্গী নদীর পানির কারণে এই এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হতো। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতো—বিশেষ করে শিশুদের স্কুলে যাওয়া, কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানো এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, একদিকে সময় নষ্ট, অন্যদিকে ঝুঁকি—দুই মিলিয়ে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে আনসার নেতা মোঃ জসিম উদ্দিন মানবসেবার ব্রত নিয়ে এগিয়ে আসেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে সাকু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করেন একই ইউনিয়নের আনসার কোম্পানি কমান্ডার জমীর উদ্দিন।
সুফল পেলেন দুই ইউনিয়নের মানুষ
সাকু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর দুই ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগ এখন সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা নিরাপদ হওয়ায় অভিভাবকরা স্বস্তি পেয়েছেন এবং কৃষি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও গতি এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তনয় চাকমা বলেন, "আগে শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পেতাম। এখন আর কোনো ঝুঁকি নেই। আমরা সবাই জসিম ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।"
সমাজসেবায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
শুধু সাকু নির্মাণ নয়, মোঃ জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ান, শীতবস্ত্র বিতরণ করেন, কৃষকদের সহায়তা করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি লোগাং বাজার নুরানী মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ করে তাদের মুখে হাসি ফোটান।
তার এই ধরনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে। এলাকাবাসীর মতে, ভিডিপি দলনেতা জসিম উদ্দিনের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের কর্মকাণ্ড স্থানীয় সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার উদ্যোগ শুধু অবকাঠামো উন্নয়নেই নয়, মানবিক মূল্যবোধ গঠনেও বড় ভূমিকা রাখছে।