ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ–রায়গঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এখন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এই আসনে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতা মাঠে সক্রিয় থাকলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা বিএনপির সহসভাপতি রকিবুল করিম খান পাপ্পু তাঁর ‘ক্লিন ইমেজ’ ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে মনোনয়ন দৌড়ে দৃশ্যত এগিয়ে রয়েছেন।
🔹 প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিতর্কে জর্জরিত
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে রকিবুল করিম খান পাপ্পু ছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি আয়নুল হক, প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মান্নান তালুকদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র রাহিদ মান্নান লেলিন, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কামাল হোসেন, এবং সেলিম জাহাঙ্গীর।
তবে বিএনপি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়কালে এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। কেউ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান, কেউ আবার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন—যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী ছিল।এই কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি হয়, এমনকি কয়েকজনকে সাময়িক অব্যাহতিও দেওয়া হয়।ভিপি আয়নুল হককে অভিযোগের ভিত্তিতে তিন মাসের জন্য দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, কারণ তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান খানকে পরিষদে বসতে সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। অপরদিকে, রাহিদ মান্নান লেলিন ও কামাল হোসেন দলের তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা না করা এবং বিতর্কিত স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় শোকজের মুখে পড়েন।
🔹 রকিবুল করিম খান পাপ্পু: বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বের প্রতীক
এমন অস্থির পরিস্থিতিতে রকিবুল করিম খান পাপ্পু নিজেকে সব ধরনের বিতর্ক থেকে দূরে রেখে দলের আস্থাভাজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছাড়াও অতীতে ছিলেন জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য, রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা নেতা।
দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আদর্শে অবিচল থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বা অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ নেই। বরং সংগঠনের অভ্যন্তরে তিনি ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
🔹 তৃণমূলের অকুণ্ঠ সমর্থন
তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলার বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর বহু নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে রকিবুল করিম খান পাপ্পুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোলায়মান হোসেন শিহাব বলেন—
“দীর্ঘদিন ধরে পাপ্পু ভাই এলাকার মানুষের সঙ্গে থেকে উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি একমাত্র ক্লিন ইমেজের প্রার্থী। তাঁকে মনোনয়ন দিলে বিএনপি সংগঠিত হবে, এলাকাও উপকৃত হবে।”
রায়গঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল খান প্যারিস বলেন—
“পাপ্পু ভাই মনোনয়ন পেলে রায়গঞ্জ-তাড়াশ অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে। তিনি উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতীক। বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর।”
🔹 জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে রকিবুল করিম খান পাপ্পু বলেন—
“দীর্ঘদিন ধরে আমি দলের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। কখনো এমন কিছু করিনি যাতে দলের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। আমার কাছে রাজনীতি মানে মানুষের সেবা ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করা।তিনি আরও জানান,“দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চলনবিল অঞ্চলের কৃষি ও শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এবং অবকাঠামো উন্নয়ন হবে আমার অগ্রাধিকার।”
🔹 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড রকিবুল করিম খান পাপ্পুকে সুবিধাজনক অবস্থানে এনে দিয়েছে। তাঁরা মনে করেন, “দলের হাইকমান্ড যদি ক্লিন ইমেজ ও তৃণমূলের আস্থা বিবেচনায় নেয়, তবে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির একক মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রকিবুল করিম খান পাপ্পুর।”
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে এখন নজর সবার— দলের হাইকমান্ড কি সত্যিই ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতাকে বেছে নেবে, নাকি রাজনীতির পুরনো হিসাবেই হবে মনোনয়ন?