মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা।
সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘ডিজিটাল মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে লংগদু উপজেলায়ও একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই মসজিদের ছাদের কংক্রিট খসে পড়েছে এবং ভেতরের ইটের গাঁথুনি বেরিয়ে এসেছে। দোতলার ছাদ বেয়ে পানি পড়ার ঘটনাও দেখা দিয়েছে, যা নির্মাণ কাজে গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট, বালু, সিমেন্ট, কংক্রিট ও রড ব্যবহার করছে। এতে মসজিদের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এছাড়া কাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাদ ঢালাইয়ে নির্ধারিত পরিমাণ রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। ছাদে ৬ ইঞ্চি ঢালাইয়ের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। ফ্লোরের পুরুত্বে উঁচু-নিচু অবস্থান চোখে পড়ে। এছাড়া নির্দিষ্ট মানের রডের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে তৈরি ‘বাংলা রড’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাইট ম্যানেজার পলাশের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আসার আগেই দোতলার ফ্লোরের কাজ হয়েছে, তাই সে বিষয়ে জানি না। আমি শুধু উপরের অংশ করছি।” তবে পরিদর্শনে দেখা যায়, তার তত্ত্বাবধানে থাকা অংশেও একাধিক অনিয়ম বিদ্যমান।
গণপূর্ত বিভাগের রাঙ্গামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মী চাকমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঠিকাদার মো. সেলিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এলাকার কিছু মানুষ অযথা অভিযোগ করছে। তাদের কারণে কাজের গতি ধীর হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাকই আছে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারের কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত এই মডেল মসজিদ যেন সত্যিকার অর্থে দৃষ্টিনন্দন, মজবুত ও টেকসই হয়, সেটিই সবার প্রত্যাশা। তারা নির্মাণ কাজে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।