ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঐতিহ্যবাহী পানশী নৌকা বাইচকে ঘিরে গুমানি নদীর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। নৌবাড়ীয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মেগা ফাইনাল দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন হাজারো দর্শক। ঢাক-ঢোল, করতালির শব্দ আর নৌকার ছুটে চলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে গুমানি নদীতে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচ উৎসব-২০২৬, সিজন-১’-এর মেগা ফাইনাল। এতে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১৩টি সেরা পানশী নৌকা অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বন্যাকান্দি একতা চ্যালেঞ্জার চ্যাম্পিয়ন হয়। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কৈবর্তগাতী একতা এক্সপ্রেস এবং তৃতীয় হয় একই উপজেলার বংকিরাট নবশক্তি ফাইটার।
চ্যাম্পিয়ন দলকে ১ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে ৬০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে ৩০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হয়।
এর আগে ১০ অক্টোবর প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। পরে ১১ ও ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন ধাপে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। মেগা ফাইনাল শেষে সন্ধ্যায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেন্দ্র উন্নয়ন বহুমুখী কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন রাজু।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, আয়োজক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পানশী নৌকা বাইচ উৎসবের সার্বিক আয়োজনে ছিলেন উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. আখিরুজ্জামান মাসুম। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় ছিল বিডি নৌকা বাইচ গ্রুপ।
আয়োজকদের মতে, নৌকা বাইচ বাংলার নদীমাতৃক জনপদের শত বছরের লোকজ ঐতিহ্যের অংশ। আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে অনেক এলাকায় এই ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও ভাঙ্গুড়ার গুমানি নদীতে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখারও একটি কার্যকর উদ্যোগ। প্রতিবছর নিয়মিতভাবে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হলে স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিও আরও সুদৃঢ় হবে।