সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদা দাবি করে জমি দখলের চেষ্টা, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ আমলী আদালতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন মাকসুদা হোসেন নামে এক নারী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উদ্ভবগঞ্জ এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী লোকমান হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে মাকসুদা হোসেন বলেন, ২০১১ সালে তিনি সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের পানাম গাবতলী মৌজায় ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে জমিটি তার নামে নামজারি করা হয় এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে তিনি ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে পানাম গাবতলী এলাকার হযরত আলীর ছেলে আল আমিন, শফিকুল ইসলামের ছেলে সাকিব, আব্দুল আউয়ালের ছেলে সুমন, আজব আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামসহ নয়জন সেখানে গিয়ে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেন। একপর্যায়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাকসুদা হোসেন আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তিনি সোনারগাঁ থানায় মামলা করার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করে এজাহারনামীয় আসামি সুমনের ভাই এবং স্থানীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে হয়রানি করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া জমিতে রাখা প্রায় আড়াই হাজার ইট ও ১৫ বস্তা সিমেন্টও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আল আমিন। তিনি বলেন, মাকসুদা হোসেনকে তিনি চেনেন না এবং তার সঙ্গে কখনো দেখা হয়েছে বলেও মনে পড়ে না।
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আল আমিন বলেন, যে জমি নিয়ে মামলা করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়রা সেখানে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করে থাকে।
তিনি আরও দাবি করেন, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ইসমাইল হোসেন হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে মাকসুদা হোসেনের কাছে বিক্রি করেছেন। তার দাবি, ওই নারী নিজেও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে মাকসুদা হোসেনের করা মামলার অভিযোগ এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।