মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ন তাঁতী লীগের আহবায়ক মীর মো. জিয়াউর রহমান (সুমন) হঠাৎ করেই এখন রামগতি উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহবায়ক! এমন নাটকীয় রূপান্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি করেছে তীব্র আলোচনার ঝড়।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১৬ জুলাই তারিখে লক্ষ্মীপুর জেলা জিয়া মঞ্চের আহবায়ক মাসুদুর রহমান রুবেল এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুমনকে রামগতি উপজেলা জিয়া মঞ্চের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়।
কিন্তু এখানেই চমক! মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও মীর জিয়াউর রহমান সুমন ছিলেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন তাঁতী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের আহবায়ক। দলীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনের বেশিরভাগ নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেলে সুমন হঠাৎ করেই বিএনপির ব্যানারে প্রকাশ্যে আসেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা এবং বিতর্ক।
বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অনেকেই এই মনোনয়নকে ভালোভাবে নেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা অভিযোগ করে বলেন, “দলের কিছু নেতা এখন টাকা নিয়ে পদ বিক্রি করছেন। নইলে একজন আওয়ামী লীগ নেতা কিভাবে বিএনপির মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনের আহবায়ক হন?”
তাদের প্রশ্ন, “বিএনপিতে কি নেতা-কর্মীর এতই অভাব পড়েছে যে আওয়ামী লীগের লোকজনকেই নেতৃত্বে বসাতে হবে?”
বিএনপির অভ্যন্তরে অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের বিতর্কিত মনোনয়ন দলীয় আদর্শ ও জনভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মনোবলও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, মীর জিয়াউর রহমান সুমনের এমন আচরণকে "রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতা" বলেই আখ্যা দিচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেউ কেউ বলছেন, “সরকার পরিবর্তনের পরপরই দলের রঙ পাল্টানো এখন যেন একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।”