রাশেদুজ্জামান রিমন, কুষ্টিয়া
বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবস-২০২৫ উপলক্ষে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তিনি বলেন, বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ শুধু কুষ্টিয়ার নয়, তিনি আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। মানবধর্ম, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার দর্শন ছড়িয়ে দিতে তাঁর অবদান অনন্য। লালন সাঁই আমাদের শিখিয়েছেন মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে মানবতার পথ অনুসরণ করতে।
প্রতি বছর তাঁর তিরোধান দিবস উপলক্ষে হাজারো ভক্ত-অনুরাগী কুষ্টিয়ায় সমবেত হন। এটি শুধু একটি ধর্মীয় বা আঞ্চলিক অনুষ্ঠান নয়, বরং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। তাই এবারের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকবে।
নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি, অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি হবে, তা আগামী প্রজন্মকে লালনের দর্শন চর্চায় আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি সকলকে আহ্বান জানাই—লালনের ভাবধারা হৃদয়ে ধারণ করে আমরা যেন বৈষম্যহীন, সাম্য ও মানবতার সমাজ গড়ে তুলি।
সভায় জানানো হয়, আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হবে। এ উপলক্ষে আয়োজিত গ্রামীণ মেলা এবার সাত দিনব্যাপী চলবে।
সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানমালায় থাকবে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।
প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল আহমেদ, সেনাক্যাম্পের ক্যাপ্টেন লামইয়ানুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, এনসিপি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, লালন ভক্ত ও অনুরাগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আইরিন ফারজানা।
সভায় এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান গাঁজা সেবনকে বৈধ করার প্রস্তাব উত্থাপন করলে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন এবং এ ধরনের অসঙ্গত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।