আশরাফুল ইসলাম রনজু
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া মাত্র ১২ কিলোমিটার সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি জমে অনেক গর্ত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তানোর থেকে মোহনপুর পর্যন্ত সড়কটি দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ ও ইট-সুরকি উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বিশেষ করে কাশেম বাজার থেকে মোহনপুর থানা গেট পর্যন্ত অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মোহনপুর উপজেলার পোল্লাকুড়ি গ্রামের মসজিদ থেকে পূর্ব দিকে সড়কের একটি অংশও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বাড়ছে যানবাহনের চাপ
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তানোর-বায়া সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকায় বিকল্প পথ হিসেবে তানোর-মোহনপুর সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে ভারী যানবাহন চলাচলও বেড়ে যাওয়ায় পুরোনো ও দুর্বল সড়কটির বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। আশপাশের বাড়িঘর সড়কের তুলনায় উঁচু হওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগও কম। ফলে কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানির নিচে থাকা গর্তগুলো যানবাহনের চালকদের কাছে অনেক সময় দৃশ্যমান না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
ট্রাকচালক মোতালেব হোসেন বলেন, “রাস্তায় বড় বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টির সময় সেগুলো পানির নিচে চলে যায়। তখন গর্ত বোঝা যায় না। ফলে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই বিপাকে পড়তে হয়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার।”
অটোরিকশাচালক সুরতান আহমেদ বলেন, অটোরিকশা, অটোভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল ও সাইকেল নিয়ে এই সড়কে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দ্রুত সংস্কার না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগ
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন আগে নির্মিত সড়কটি এখনো যথাযথভাবে প্রশস্ত করা হয়নি। বিকল্প ভালো সড়ক না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন।”
তিনি আরও বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্তগুলো দিন দিন বড় হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু সাময়িকভাবে গর্তে ইট বা খোয়া ফেলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি প্রশস্ত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
দ্রুত সংস্কারের দাবি
তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়কটি দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের পানি নিষ্কাশনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক বলেন, “এ বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। খোঁজ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে সড়কটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ।