মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির রামগড়ে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত ও পুনর্নির্মাণে মানবিক সহায়তা হিসেবে ৪০টি পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামগড় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে রামগড় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক পরিবার দুর্ভোগে পড়ে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ৪০টি পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের হাতে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ৩ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। ঘরবাড়ি মেরামত ও পুনর্নির্মাণে এই সহায়তা ব্যবহারের কথা জানানো হয়। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রেহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ বি এম মোজাম্মেল হক, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব রাজা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম করিম এবং রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সহায়তা বিতরণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন। এ অবস্থায় ঢেউটিন ও নগদ অর্থের সহায়তা পাওয়ায় ঘর মেরামতের কাজে কিছুটা স্বস্তি মিলবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা তাদের ঘুরে দাঁড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।