শিবলী সাদিক খান, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীতীরবর্তী পাঁচ শতাধিক পরিবার, শত শত একর ফসলি জমি, কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক এবং ব্রহ্মপুত্র-কালিবানার মোহনায় নির্মিত একটি সেতু ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাগলা থানাধীন বাঁশিয়া বাজার থেকে ৮ নম্বর টাংগাব ইউনিয়নের দক্ষিণ সীমানা টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে প্রতিনিয়ত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীভাঙনের হাত থেকে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গত ৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনে বলা হয়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। যেকোনো সময় নদীভাঙনে এসব ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরঘেঁষা কে.বি. ইসমাইল খান সড়কটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, ব্রহ্মপুত্র ও কালিবানার মোহনায় নির্মিত সেতুটিও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক ও সেতুটি রক্ষার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।