সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বস্ব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার কদমরসুল এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন—মো. দিদারুল আলম, মো. খায়ের আহমেদ, নিজাম উদ্দিন মিন্টু, মো. আব্দুল, মো. শাহা আলম, মো. জমির, মো. ফারুক, মো. কোরবান আলী, মো. মনামিয়া, মো. ওসমান, মো. ইছামিয়া, মো. গুনু মিয়া, মো. শাহাজান, মো. সিরাজুদ্দুল্লাহ, মো. হেলাল, শুকুমার, মো. আরমান, মো. কালাম, মো. সাইফুল, মো. রিপন, মো. জলিল, মো. আরিফ, মো. সামসুল আলম ও মো. ইদ্রিস মিয়াসহ আরও অনেকে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দিদারুল আলম বলেন, আগুনের তীব্রতার কারণে দোকান থেকে কোনো মালামাল বের করতে পারেননি। তাঁর দোকানে থাকা সবজি, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে গেছে।
আরেক ব্যবসায়ী শাহা আলম বলেন, তাঁর দোকানে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ছিল তাঁর পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ভোররাতে কদমরসুল বাজারের দিকে কান্নাকাটির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন দেখতে পান। পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ দোকানের দরজা-জানালা খুলে ভেতরে পানি দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে সবজি, মুদি, ফার্মেসি, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি, অধিকাংশ দোকানে ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল ছিল। সব মিলিয়ে তাঁদের হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্য কাজী মহিউদ্দিন, কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এম সামছুদ্দৌহাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে সর্বস্ব হারানো ব্যবসায়ীরা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।