খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর
(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর-মাধবপুর সড়কের নানা অংশে বড় বড় গর্ত, ভাঙন আর খানাখন্দে ভরে গেছে। ফলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নারী থেকে রোগীবাহী গাড়ি, কেউই স্বস্তিতে নেই। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে সব বয়সি মানুষকে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের তিন কিলোমিটার নির্মাণেই দুই বছর সময় লেগেছে। অথচ কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে আরও আগে। বিপজ্জনক এ সড়কে প্রতিদিন কোন না কোন দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে আহত হচ্ছেন শিশু-নারী, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
জনগুরুত্বপূর্ণ নাসিরনগর - মাধবপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক চলাচলের অনুপযোগী জনভোগান্তি চরম ভোগান্তি নিরসনে সামাজিক ফেইসবুকে তুলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।এছাড়াও জনভোগান্তি নিরসনে মহান জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কয়েক দফা আলোচনা করেছেন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ১ নাসিরনগর সংসদীয় ২৪৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা এম এ হান্নান এমপি মহোদয়।
নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানাযায়, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নাসিরনগর-মাধবপুর আঞ্চলিক সড়কের ৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর খরচ ধরা হয় ১৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজ এ কাজ পায়।
আগের সড়ক ছিল ১২ ফুট। কার্যাদেশে সেটি ২২ ফুটে উন্নীত করার কথা। এর মধ্যে ১৬ ফুট ৫ ইঞ্চি হবে পিচ ঢালাই, পাশে তিন ফুট করে সোল্ডার। এক বছর ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। যে সময়সীমা শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২৮ মে। ইতোমধ্যে মোটাঅঙ্কের টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা এখন কাজের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব
দিয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নাসিরনগর থেকে ফুলপুর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার অংশে কাজ হয়েছে। তবে কাজের নিম্নমান ও নিয়মানুযায়ী কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে রাস্তার নুরপুর, পাঠানিশা, চটিপাড়া, চৈয়ারকুড়ি, জেঠাগ্রাম, শ্যামপুর,পুর্বভাগ, বেলুয়া, নরহা,হরিণবেড়, হরিপুর অংশ চলাচলের অনুপযোগী।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম মিয়া বলেন, আমাদের রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ যে কোনো গর্ভবতী যদি এই রাস্তা দিয়ে যায় তার আর হাসপতালে যাওয়া লাগবে না। তিনি রাস্তায় মারা যাবেন। কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ঠিকাদার কাজ
করেনি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মোমেন জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারের ব্যর্থতার কারণে সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না। দ্রুতই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান এমপি মহোদয় এ সড়কের সমস্যার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন।
উল্লেখ্য, গত মার্চ- এপ্রিলে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নাসিরনগর-মাধবপুর সড়কের মেরামতকাজ শুরু হয়। তবে কিছুদিন পরই অদৃশ্য কারণে আকস্মিকভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সংস্কারের আশায় থাকা এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাসরিন বলেন, রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। ঠিকাদার ধীরগতিতে কাজ করছে। ঠিকাদার যাতে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করে সেই চেষ্টা করছি।