মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির রামগড় সদর ইউনিয়নের গরুকাটা এলাকায় দুই বাঙালি পরিবারের বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দুই ঘটনায় আগুনে একটি পরিবারের দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং বসতঘর ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের সদস্যরা এ অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট গভীর রাতে গরুকাটা এলাকার বাসিন্দা বারেক সেনের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ঘরটি পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘরের ভেতরে থাকা দুটি গরুও আগুনে পুড়ে মারা যায়। এতে বারেক সেন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এর দুই দিন পর, ১৫ আগস্ট ভোরে একই এলাকার রহমত আলীর বসতবাড়িতেও আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে তার বসতঘর ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত রহমত আলী অভিযোগ করে বলেন, জঙ্গলে অবস্থানরত একটি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা তার বাড়িতে এসে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অপর ক্ষতিগ্রস্ত বারেক সেন বলেন, গভীর রাতে সশস্ত্র লোকজন তার ঘরে আগুন দেয়। আগুনে তার দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে। এতে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর হামলা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির কারণে গরুকাটা এলাকার বাঙালি পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা জানান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইউপিডিএফের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা ও দায়ীদের বিষয়ে প্রশাসনের তদন্তের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।