উজ্জ্বল কুমার নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ বোতল ইসকাফ ফেন্সিডিলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ ১১ হাজার ১২০ টাকাও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বদলগাছী উপজেলার পিন্ডিরা গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে আব্দুল মালেক মিল্টন (৪০), জগন্নাথপুর গ্রামের নুরুল সর্দারের ছেলে আল আমিন (৩৩) এবং জিয়ল গ্রামের কসিমুদ্দিনের ছেলে শরিফুল (৩৮)।
জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা যায়, জনগণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল বদলগাছী থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে রাত ৯টার দিকে পিন্ডিরা গ্রামের সিয়ামের ভাই-বোন ট্রেডার্স নামের টিনের দোকানে অভিযান চালিয়ে আব্দুল মালেক মিল্টন ও আল আমিনকে আটক করা হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে তাদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হয়।
পরে আল আমিনের হেফাজত থেকে দুই বোতল ইসকাফ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন পুলিশকে জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যগুলো দোকানের মালিক আব্দুল মালেক মিল্টনের। তার আরও মাদক শরিফুলের দোকানে রাখা আছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিয়ল গ্রামের শরিফুলের ফ্লেক্সিলোডের দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের ভেতর থেকে আরও তিন বোতল ইসকাফ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যগুলো আব্দুল মালেকের। তিনি তার কাছে মাদকগুলো রেখে যেতেন এবং ক্রেতা পেলে শরিফুল তা বিক্রি করে টাকা আব্দুল মালেকের কাছে পৌঁছে দিতেন। শরিফুল আরও জানায়, আব্দুল মালেকের বাড়িতেও মাদকদ্রব্য মজুত রয়েছে।
এরপর আব্দুল মালেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির পেছনে একটি গর্তের ভেতর প্লাস্টিকের ব্যাগে লুকিয়ে রাখা আরও পাঁচ বোতল ইসকাফ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে আল আমিনের কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ১১ হাজার ১২০ টাকা জব্দ করা হয়। এ নিয়ে অভিযানে মোট ১০ বোতল ইসকাফ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তা কেনাবেচা করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বদলগাছী থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।