খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের কালিউতা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার সোহেল উপজেলার কালিউতা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি কালিউতা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুল ইসলামের ভাতিজা।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম সোহেলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার তিলপাড়া, ছাতিয়াইন, রতনপুর ও আদাঐর সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। তাকে ঘিরে এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের সর্বশেষ মামলাটি উপজেলার গুতমা গ্রামের জামাত আলীর দায়ের করা বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাতির সময় জামাত আলীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার পর জামাত আলী দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, সোহেলের এক আত্মীয়ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কালিউতা গ্রামের পশ্চিম পাশে নদীর পাড়সংলগ্ন একটি নির্জন এলাকায় সোহেলের বাড়ি হওয়ায় ওই এলাকায় অপরাধীদের আনাগোনা ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, অতীতেও ওই এলাকা থেকে গরুসহ ডাকাত গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এ-সংক্রান্ত একটি মামলা এখনও চলমান রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের মতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তাদের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার করেই বিষয়টি শেষ না করে তদন্তের মাধ্যমে ডাকাতির ঘটনায় প্রকৃতভাবে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ ও নির্জন এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।