মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি:
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৩টি উচ্চ বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসার প্রকাশিত ফলাফলে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পাশের হারে এগিয়ে রয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ জন। তবে কোনো পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
অন্যদিকে, উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জন করেছে রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
উগলছড়ি মহাজনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভাসান্যাদম ইসলামি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৫ জন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ জন। গুলশাখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫২ জনের মধ্যে ২০ জন, লংগদু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৭ জনের মধ্যে ১৩ জন এবং মাইনীমুখ মডেল হাইস্কুল থেকে ৭১ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
এ ছাড়া কাট্টলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জন, কালাপাকুজ্যা সেনা মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৩ জনের মধ্যে ১৬ জন, লংগদু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৩ জনের মধ্যে ১১ জন এবং উত্তর ইয়ারিংছড়ি সেনা মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছে।
তবে সবচেয়ে হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে মহালছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
দাখিলেও হতাশাজনক ফল
উপজেলার মাদ্রাসাগুলোতেও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল খুব একটা সন্তোষজনক নয়। মাইনীমুখ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জন, গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ আলিম মাদ্রাসা থেকে ৫৭ জনের মধ্যে ৩৭ জন এবং পশ্চিম সোনাই মোহাম্মদীয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় লংগদু উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেকেই এই ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন। আবার সচেতন অভিভাবকদের একটি অংশের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার ও উদাসীনতাও ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাসে ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে আগামীতে এ অঞ্চলের শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।