নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শিকারপুর মৌজায় সরকারি লিজ নেওয়া ১ দশমিক ৯২ একর খাসজমি জোরপূর্বক দখল ও ধান রোপণের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন জমিটির লিজগ্রহীতারা। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী মো. হামিদ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে লিজগ্রহীতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৮৬ সালে সরকারি নিয়ম মেনে স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা ও আরও তিনজন শিকারপুর মৌজার ১ দশমিক ৯২ একর খাসজমি সরকারি লিজ নেন। লিজ নেওয়ার পর থেকে তাঁরা নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে জমিটি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন বলে দাবি করেন।
লিজগ্রহীতাদের অভিযোগ, গত শনিবার রাতে মো. হামিদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক ট্রাক্টর নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। পরে জমি চাষ করে সেখানে ধানের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় লিজগ্রহীতারা বাধা দিতে গেলে তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিজগ্রহীতা মাসুদ রানা বলেন, “আমরা ১৯৮৬ সাল থেকে সরকারি সব নিয়ম মেনে খাজনা পরিশোধ করে জমিটিতে চাষাবাদ করে আসছি। হঠাৎ করে হামিদ হোসেন দলবল নিয়ে এসে ট্রাক্টর দিয়ে আমাদের আবাদি জমি চাষ করে ধান রোপণ করেছেন। আমরা বাধা দিতে গেলে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।”
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, প্রায় চার দশক ধরে তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে জমি দখলের চেষ্টা চালানোয় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিজগ্রহীতারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে সরকারি লিজের কাগজপত্র যাচাই করে জমির দখল ও লিজসংক্রান্ত বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে মো. হামিদ হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।