স্টাফ রিপোর্টার, সেনবাগ (নোয়াখালী):
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পৃথক দুটি ঘটনায় জেলা বিএনপির এক নেতাসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই রাতে একটি ইউনিয়ন জামায়াত কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গুলির ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চৌমুহনী বাজার ও আমানউল্ল্যাপুর ইউনিয়নের করিমপুর এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এবং চৌমুহনী হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হাজী আবুল কাশেম (৬০) বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের কার্যালয় থেকে সহযোগী ও ফার্মেসি ব্যবসায়ী ইয়াছিন সেন্টু (৪৫)-কে নিয়ে বের হন।
তারা হেঁটে হকার্স মার্কেটের মূল গলিতে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় ইয়াছিন সেন্টু তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কাশেমের হাতে গুলির আঁচড় লাগে এবং একটি গুলি সেন্টুর বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত আহত সেন্টুকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
অপরদিকে, একই রাতে উপজেলার আমানউল্ল্যাপুর ইউনিয়নের করিমপুর এলাকায় ইউনিয়ন জামায়াতের কার্যালয়ে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও গুলিবর্ষণ করে। স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) আনম ইমরান খান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার সহযোগী ইয়াছিন সেন্টুর বুকে লাগে। তিনি আরও জানান, উভয় ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।