মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু (রাঙ্গামাটি)
অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পারায় শরীরে পচনধরে কষ্টে দিন পার করছিলেন রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের জারুলবাগান এলাকার হতদরিদ্র ৭০ বছরের বৃদ্ধা রাহিমা বেগম।
গতকাল বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ফলে বিষয়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা লংগদু জোনের নজরে আসলে,লংগদু জোনের জোন অধিনায়ক লে.কর্নেল মীর মোর্শেদ এসপিপি; পিএসসি উক্ত বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার জন্য নগদ টাকা প্রদান এবং গলায় টিউমারে আক্রান্ত ১২ বছরের শিশুকে টিউমার অপারেশনের সম্পূর্ণ খরচের নগদ প্রদান করেন।
২১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় লংগদু জোনের উপ- অধিনায়ক মেজর হোসাইন মোহাম্মদ মারুফ এর ব্যবস্থাপনায় অত্র জোনের ক্যাপ্টেন রাহাত হতদরিদ্র দুটি পরিবারের হাতে চিকিৎসার খরচ বাবদ এই নগদ অর্থ তুলেদেন।
ছেলের টিউমার অপারেশনের খরচ হাতে পেয়ে কালাপাকুইজ্জা ইউনিয়নের বাসিন্দা পঙ্গু আহছান উল্লাহ বলেন, বহুদিন ধরে ছেলের চিকিৎসার জন্য মানুষের ধারে ধারে ঘুরেছি, ১০/২০ টাকা করে টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে নিরূপায় হয়ে আর্মি ক্যাম্পে আসি। স্যারেরা আমার ছেলেকে টিউমার অপারেশন করাতে সম্পূর্ণ টাকা দিলেন। আমি স্যারের এই সহযোগিতার কথা সারাজীবন মনে রাখবো।
মাইনীমুখ জারুল বাগানের পায়ে পঁচনধরা রাহিমা বেগমের হতদরিদ্র ছেলে মন্নাছ বলেন, মায়ের চিকিৎসা করাতে না পেরে ধীরে ধীরে মায়ের পুরো পা পঁচে যাচ্ছিলো। গতকাল আমার মায়ের এমন পরিস্থিতির বিষয়টি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানতে পেরে সাথে সাথেই লংগদু জোনের একজন স্যার আমাকে কল দিয়ে সকালে জোনে আসতে বলেন। আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনী যে সহযোগিতা করেছে, তা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। আমি আর আমার পরিবার সেনাবাহিনীর প্রতি ঋণী থাকবো।
এসময়ে জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মীর মোর্শেদ এসপিপি; পিএসসি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের কল্যাণ ও মানব সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই মানবিক কার্যক্রম। সেনাবাহিনীর পক্ষ হতে এধরণের মানবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।