মো: গোলাম রাব্বি (পাবনা) জেলা প্রতিনিধি :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোছা: নাজমুন নাহার। নাগরিক সেবার মানচিত্রে দাপ্তরিক সেবা কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা ও গতিশীলতা।সাধারণত, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা যায়, তবে এই নির্বাহী অফিসার সেই তালিকার বাইরে। তার ব্যবহার অত্যন্ত সুন্দর এবং তিনি মুচকি হাসি দিয়ে সব সময় মানুষের পাশে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মাঠ প্রশাসনের কাজের চাপ বেড়েছে। উপজেলা প্রশাসন সামলানোর পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। এসব কাজের চাপ থাকা সত্ত্বেও উপজেলার সেবার মান দ্রুত নতুন রূপে বেড়েই চলেছে।তিনি এলাকার সেবা কার্যক্রমে একে একে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন মোবাইল কোট পরিচালনা করছেন। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা পার্ক কে দিয়েছেন আধুনিকতার ছোঁয়া।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ অভাব-অনটনে জর্জরিত এক অসহায় মহিলার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দিলেন নতুন জীবনের ভরসা।বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসবাসরত ওই মহিলা দীর্ঘদিন ধরে স্বামীহারা হয়ে একা জীবনযাপন করছেন। তাঁর নেই কোনো স্বজন, নেই কোনো নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস। সামান্য একটি টং দোকানই তাঁর জীবিকার একমাত্র ভরসা হলেও অভাবের কারণে দোকানে পর্যাপ্ত মালামাল তুলতে পারছিলেন না। ফলে প্রতিদিনের দুঃখ-কষ্টে তিনি প্রায় বেঁচে থাকার আশা হারিয়ে ফেলছিলেন।
এমন পরিস্থিতির কথা জানার পর ইউএনও মহোদয় নিজেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেন। আজ তিনি ওই মহিলার দোকানের খোঁজখবর পেলে মানবিক সহায়তা হিসেবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন, যাতে তিনি দোকানে নতুন করে মালামাল তুলতে পারেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগে ভেসে ওঠেন ওই অসহায় মহিলা। তিনি চোখ ভিজিয়ে বলেন,আজ মনে হচ্ছে আমি আবার বাঁচতে পারবো। এতদিন অভাবের কষ্টে প্রতিদিন চোখের পানি ফেলে দিন কাটিয়েছি। দোকানে মালামাল তুলতে না পেরে মনে হতো, হয়তো আর পারবো না টিকে থাকতে। কিন্তু ইউএনও স্যার আমার কষ্টটা বুঝেছেন, আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর সহযোগিতাই আমার জীবনে নতুন আশা জাগিয়েছে। আমি যেন আবার বাঁচার সাহস পেলাম। আল্লাহ তাঁকে সুস্থ রাখুক, ভালো রাখুক—স্যারের এই উপকার আমি কোনোদিন ভুলবো না।”
শুধু এই মহিলার সহযোগিতাই নয়, ভাঙ্গুড়ায় ইউএনও মহোদয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও এসেছে ব্যাপক গতি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে বণ্টন—সব ক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সমস্যাও তিনি গুরুত্ব সহকারে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, ইউএনও মহোদয়ের এই উদ্যোগ শুধু একজন অসহায় মহিলাকেই নতুন জীবন দিয়েছে তা নয়, সমাজে এক বিরল মানবিক দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে। জনগণ বিশ্বাস করে—এমন কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা থাকলে অসহায় মানুষদের জীবনেও নতুন আলো ফোটানো সম্ভব।
উপজেলা জুড়ে এখন ইউএনও মহোদয়ের এই অনন্য উদ্যোগের প্রশংসা চলছে। সাধারণ মানুষ আশা করছে—এমন মানবিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে যাবে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা:নাজমুন নাহার বলেন, “কর্মকর্তা হলো জনগণের সেবক। আমি যেখানেই চাকরি করেছি, সবসময় নাগরিকদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করেছি। এই ধারা অব্যাহত রাখব।” তিনি আরও বলেন, “যেদিন এখানে যোগদান করেছি, সেদিনই বলেছি—এই ভাঙ্গুড়া উপজেলা আমার। এখানে যতদিন আছি, এভাবেই সকলকে সেবা দিতে চাই। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং সকলের সহযোগিতায় ভাঙ্গুড়া একটি আধুনিক উপজেলা বানাতে চাই।