মকবুল হোসেন
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদের ১১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি। এতে রেঞ্জ ডিআইজি, বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি হিসেবে সেবা ফাউন্ডেশন, উন্নয়ন সংঘ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে মোট ১২১ জন শিশু শ্রমিককে বিভিন্ন ধরনের শ্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত ও নিরসনকৃত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৫ জনে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ১২২ জন এবং নেত্রকোনা জেলায় ১৩ জন শিশু শ্রমিক শনাক্ত ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়া শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণার অংশ হিসেবে জামালপুর সদর উপজেলার তুলশীরচর ও লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। শিশুশ্রম নিরসনে নিয়মিত পরিদর্শন, বিশেষ অভিযান, উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী বলেন, “প্রতিটি শিশুর প্রধান দায়িত্ব হলো শিক্ষা গ্রহণ করা। কোনোভাবেই শিশুকে শ্রমঘন কাজে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে শুধু সাধারণ তথ্য উপস্থাপন নয়, বরং নির্দিষ্ট শিশুকে কেন্দ্র করে পরিবারভিত্তিক কার্যকর সহায়তা দিতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে।
তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর যেমন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের আওতায় আনতে হবে।
সভায় আরও বলা হয়, অনেক পরিবারে এখনো ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুরা গৃহস্থালি ও বিভিন্ন শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিশুশ্রম সংক্রান্ত তথ্য জানানোর জন্য সরকারের টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৬৩৫৭ আরও বেশি প্রচারের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, সরকারের জনবান্ধব সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি করতে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে সেবাগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে