আবু বকর সিদ্দিক বক্কর, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশার। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশার জানান, সংবাদে যেসব রাইস মিলকে অচল বা বন্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো ২০২৬ সালের মার্চ মাসে খাদ্য পরিদর্শকের জরিপে সচল পাওয়া যায়। কয়েকটি মিলে অবকাঠামোগত সামান্য ত্রুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট মিল মালিকদের কাছ থেকে তা দ্রুত সংস্কারের অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ত্রুটি সংশোধনের পর নীতিমালা অনুযায়ী ওই মিলগুলো চাল সরবরাহের বরাদ্দ পায় এবং বর্তমানে নির্ধারিত মান অনুযায়ী খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করছে।
তিনি আরও বলেন, অতিবৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের কারণে কোনো কোনো সময় মিলের উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে সীমিত বা বন্ধ থাকতে পারে। তবে এসব কারণে মিলকে অচল বলা সঠিক নয়।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, চলতি বোরো মৌসুমে মেসার্স বৈশাখী অটোমেটিক রাইচ মিল ও মেসার্স বৈশাখী অটো রাইচ মিল যৌথভাবে ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহের বরাদ্দ পেয়েছে এবং চুক্তি অনুযায়ী খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করছে। তবে চালের গুণগত মান নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কয়েকটি ট্রাক চাল ফেরত দিয়েছেন। খাদ্য বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী মানসম্মত না হলে চাল ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু বৈশাখী মিলের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য মিলের ক্ষেত্রেও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, আদমদীঘি উপজেলায় ইতোমধ্যে শতভাগ ধান সংগ্রহ এবং প্রায় ৯০ শতাংশ চাল সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মন্তব্য এবং সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঘিরে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে মেসার্স বস ভোলা রাইচ মিলের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান টিটুও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও রাইস মিল সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার অভিযোগ, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছেন। মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং এতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।