স্টাফ রিপোর্টার | সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তীব্র গরমে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, শিক্ষা কার্যক্রম ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বিদ্যুৎ সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে সোনারগাঁয়ের শিল্পাঞ্চলে। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট-বড় কলকারখানাগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করলেও এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
সোনারগাঁ পৌরসভার দিঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন শিবলী বলেন, “পৌর এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রচণ্ড গরমে রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছি।”
পৌর এলাকার কয়েকটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানায়, জেনারেটর থাকলেও অতিরিক্ত ডিজেল ব্যয়ের কারণে সব সময় চালানো সম্ভব হয় না। ফলে বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় তাদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে।
পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “সময়মতো সেচ দিতে না পারায় এক বিঘা জমির সবজি ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না।”
বারদী ইউনিয়নের শান্তির বাজার এলাকার অটোরিকশাচালক চান মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ির ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না। আয় কমে গেছে, সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা এলাকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বি জানায়, “সামনেই এসএসসি পরীক্ষা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না।”
সংবাদ সংগ্রহের সময়ও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয় বলে প্রতিবেদক উল্লেখ করেন। স্থানীয়দের দাবি, অনেক সময় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর টানা দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (সোনারগাঁ জোনাল অফিস)-এর উপমহাব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, “বিদ্যুতের ঘাটতি বর্তমানে জাতীয় সমস্যা। আমাদের এলাকায় চাহিদা ১৪৫ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০ মেগাওয়াট। এ কারণে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।”