শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর ঢাকামুখী লেনে ডেক স্ল্যাব ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্ত দিয়ে নিচের পানি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও পথচারী আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝামাঝি অংশের ডেক স্ল্যাব ভেঙে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সেতু পার হতে হচ্ছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পনও অনুভূত হয়। রাতের অন্ধকার কিংবা বৃষ্টির সময় গর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়লেও এখনো স্থায়ী কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।
শুধু সেতুর মূল অংশই নয়, পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়েও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। আগাছায় ঢেকে পথটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে পথচারীদের দ্রুতগতির যানবাহনের পাশ দিয়ে সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এই ওয়াকওয়ে দিয়ে প্রতিদিন মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ কোম্পানি, বসুন্ধরা গ্রুপ, আল-মোস্তফা কোম্পানি, টাইগার পাওয়ার হাউজসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। তাঁদের অভিযোগ, সামান্য অসাবধানতায়ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাকচালক মহসিন মিয়া বলেন, “আষাঢ়িয়াচর দ্বিতীয় সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। মাঝখানের বড় গর্ত যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। দ্রুত স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন আলম বলেন, “কয়েক মাস আগেও একই স্থানে গর্ত হওয়ার পর নামমাত্র সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কাজটি টেকসই না হওয়ায় আবারও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে কাজ করলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”
ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন মধু বলেন, “আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাই। সেতুর মাঝখানের গর্ত যেন মৃত্যুফাঁদ। পথচারীদের ওয়াকওয়ের অবস্থাও খুবই খারাপ। স্ল্যাব ভেঙে গেছে, আগাছায় ভরে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছেন। একটু হোঁচট খেলেই গাড়ির নিচে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু ও ওয়াকওয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁরা দ্রুত স্থায়ী সংস্কার, ওয়াকওয়ে নিরাপদ করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, “আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর গর্তের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আপাতত গর্তের ওপর স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। পরে নিচ দিয়ে শাটারিং করে স্থায়ীভাবে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে। বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ করা যায়নি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে।”