কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও জোয়ারের চাপে বাঁধের একাংশ দ্রুত ক্ষয় হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্লাবনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের কয়েক হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের পাশের সরকারি পুকুরসংলগ্ন গোলখালী এলাকায় কয়েক দিন ধরে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি জোয়ারে নদীর প্রবল স্রোতে বাঁধের পাদদেশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হতে পারে।
দক্ষিণ বেদকাশীর বাসিন্দারা জানান, বাঁধটি ভেঙে গেলে অন্তত পাঁচটি গ্রামের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের, সড়ক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। অতীতেও একাধিকবার এই বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানিতে এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। সেই দুর্ভোগের স্মৃতি এখনও এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আমির হামজা বলেন, “তিন নদীর মোহনায় আমাদের অবস্থান। জোয়ারের সময় এখানে প্রচণ্ড পানির চাপ তৈরি হয়। এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।”
দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দিদারুল ইসলাম বলেন, “ছয় মাস আগে একই স্থানে ভাঙন দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় আবারও প্রায় ২০ মিটার এলাকাজুড়ে নতুন ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।”
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা-২ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাকিয়া বলেন, “বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ভাঙনকবলিত স্থানটি সাতক্ষীরা-২ বিভাগের ৩৮ নম্বর প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়নাধীন টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও এখনো ভাঙন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
উপকূলবাসীর দাবি, হাজার কোটি টাকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রকল্পের সুফল প্রশ্নের মুখে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও সম্পদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাঁধ ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। :::