প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের শাহানগর গ্রামে অবস্থিত একটি দুধের চিলিং সেন্টারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ ও কেমিক্যাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় দুইজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে শাহানগর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের মালিকানাধীন চিলিং সেন্টারে তল্লাশি চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত এক ড্রাম জেলি, কাস্টিক সোডাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মো. সাখাওয়াত হোসেন (৪০), পিতা-মৃত আকবর হোসেন, সাং-সেনগ্রাম, চাটমোহর, পাবনা দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৭৩ কেজি জেলি এবং প্রায় ৭০০ কেজি ভেজাল মিশ্রিত দুধ জব্দ করা হয়। পরে জনসম্মুখে এসব ভেজাল দুধ ও কেমিক্যাল ধ্বংস করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫০ ধারায় মো. সাখাওয়াত হোসেনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তার সহযোগী মো. সুমন আলী, পিতা-জমশেদ আলী, সাং-শাহানগর, ভাঙ্গুড়া, পাবনাকে একই ধারায় ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে সাখাওয়াত হোসেন ভেজাল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি এবং বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ ও কেমিক্যাল জব্দ করতে সক্ষম হই। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন।