নাজিরুল ইসলাম, বগুড়া সংবাদদাতা:
বগুড়ার ধুনট উপজেলার সহড়াবাড়ী ঘাটের গোসাইবাড়ি সংলগ্ন যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনের মুখে থাকা এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন পার করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হযয়ত আলী (৫০), লতা বেগম (৪৫), রোকেয়া বেগম (৪২) ও লিয়াকত হোসেন (১৮) জানান, নদীভাঙনের কারণে তারা একাধিকবার বসতভিটা হারিয়েছেন। সর্বস্ব হারিয়ে আবারও নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ এলাকায় একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। তারা বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সহড়াবাড়ী বাঁধসংলগ্ন এলাকার জুয়ের সরকার, গনি সরকার, লিটন সরকার, বাচ্চু সরকার, বারিক সরকার, আলাম সরকার ও রমজান সরকারের পরিবারসহ আরও অনেক পরিবার বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাদের অনেকেরই অন্য কোথাও আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ ও স্রোতের গতি বেড়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। নদীর বাঁকের বাইরের অংশে স্রোতের চাপ বেশি থাকায় সেখানে ভাঙন তীব্র হয়। এছাড়া বালুময় বা নরম মাটি, নদীর গতিপথের পরিবর্তন, অতিরিক্ত পানির চাপ, পলির তারতম্য, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, নদীতীরের গাছ কাটা এবং অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণও ভাঙনের অন্যতম কারণ।
এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল ইসলাম বলেন, “গত দুই থেকে তিন বছর ধরে যমুনা নদী পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় কামালপুর, বানিয়াজান ও সহড়াবাড়ী এলাকায় স্থায়ী তীররক্ষা কাজ করা হবে। পাশাপাশি বাঁধকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে এনে আরও শক্তিশালী করা হবে।”
তিনি আরও জানান, “বর্তমান ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর অভ্যন্তরে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে স্রোতের চাপ কমে এবং ভবিষ্যতে বাঁধ ভাঙনের ঝুঁকি হ্রাস পায়।”
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে যমুনার অব্যাহত ভাঙন থেকে তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হবে।