মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
গাজীপুর জেলা, বাংলাদেশর কাপাসিয়া উপজেলার একটি মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার পর তাদের মরদেহ নিজ জেলা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা–এ আনা হলে এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। রোববার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
রোববার বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ছয়টার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। আশপাশের এলাকা থেকেও শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন।
এই ঘটনায় নিহতরা হলেন—শারমিন বেগম (৩২), তাঁর ভাই রসুল মিয়া (২২) এবং শারমিন বেগমের তিন কন্যা শিশু মীম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। তারা সবাই গোপালগঞ্জ সদরের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকান্দি এলাকার একটি বাড়ি থেকে শনিবার সকালে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার গভীর রাতে তাদের হত্যা করা হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বজনদের ফোনে বিষয়টি জানালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
এ ঘটনায় শারমিন বেগমের স্বামী ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা পুরো পরিবারকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। তারা এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিত বলে দাবি করেন এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
স্বজনদের অভিযোগ, খাবারের সঙ্গে অচেতন করার কোনো পদার্থ মিশিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে—তবে এটি এখনো তদন্তাধীন।
নিহত শারমিন বেগমের বাবা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফুরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, মামলার পর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সংক্ষিপ্তভাবে, একটি পরিবারকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনা পুরো এলাকাকে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে এবং এখন সবার চোখে একটাই দাবি—ন্যায়বিচার।