নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির কেনা কৃষিজমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর জেলা রেজিস্ট্রার বিধি অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে প্রকৃত মালিককে তার জমি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জানা গেছে, অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব এবং ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলীর বাড়ি তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামে। অভিযোগের তদন্তে অভিযোগকারী, দলিল সম্পাদনকারী, সাক্ষী, স্থানীয় বাসিন্দাদের লিখিত বক্তব্য, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সরেজমিন তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পান তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম। পরে জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন অভিযুক্ত দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করেন।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না, প্রকৃত মালিককে তার জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।"
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগম জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে পরিবারের একমাত্র সম্বল সোয়া বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করা হয়। পরে ফরহাদ আলী বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় দেড় বিঘা কৃষিজমি ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় ক্রয় করেন।
পরিবারের দাবি, জমি রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবকে। কিন্তু তিনি ফরহাদ আলীর বাবা-মায়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি প্রকৃত ক্রেতার নামে রেজিস্ট্রি না করে নিজের নামে নিবন্ধন করে নেন।
ভুক্তভোগীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, বিদেশে থাকা ছেলে খুব কষ্ট করে সংসারে টাকা পাঠায়। বসতভিটা ও ছেলের কেনা জমিটুকুই তাদের শেষ সম্বল। জমি ফেরত না পেলে পরিবারটি চরম বিপদের মুখে পড়বে।

এদিকে জমির বিক্রেতা বাবলু মিয়া, কালাম হোসেন, শামীমা খাতুন ও সুমি খাতুন জানান, তারা ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরহাদ আলীর কাছেই জমিটি বিক্রি করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, প্রতারণার মাধ্যমে দলিলটি দলিল লেখক নিজের নামে করে নিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দলিলের জাবেদা নকল দীর্ঘদিন না দেওয়ায় পরিবারটি বিষয়টি জানতে পারেনি। পরে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে দলিলের নকল সংগ্রহ করে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর নামজারি ও খাজনা দিতে গিয়ে ভূমি অফিস থেকে জানতে পারে, সরকারি নথিতে জমির মালিক হিসেবে মির্জা আব্দুর রবের নাম রয়েছে। যদিও শুরু থেকেই জমিটি ফরহাদ আলীর পরিবার ভোগদখল করে আসছে।
জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন জানান, অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় বিধি অনুযায়ী দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।